রায়গঞ্জ, 30 জুন : করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যখন চিন্তিত গোটা বিশ্ব, তখন সরকারি বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করেই চলছে স্কুল । উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘিতে রমরমিয়ে চলছে একাধিক কিন্ডারগার্টেন ৷ দূরত্ব বিধি বা মাস্ক ব্যবহারের কোনও বালাই তো নেই-ই ৷ স্কুল চত্বরে একসঙ্গে খেলাও করছে শিশুরা ৷ তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরাও সংক্রামিত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা ৷ এই পরিস্থিতিতে স্কুলে আসা এই বাচ্চাদের কিছু হলে তার দায়িত্ব কে নেবে ? স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে প্রশ্ন ।
করণদিঘি ব্লকের আলতাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঘবপুর-সহ একাধিক গ্রামে দিব্যি চলছে বাচ্চাদের স্কুলগুলি । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্কুলে ছোট ছোট ঘর । সেখানেই গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের । শুধু তাই নয়, স্কুলের নিজস্ব গাড়িতেও ভিড়ে ঠাসাঠাসি করেই চলছে স্কুলে যাতায়াত ৷ সরকারি স্কুলগুলি বন্ধ রয়েছে সেই আগের বছর থেকেই ৷ তার মধ্যেই চালু হয়েছে এই বেসরকারি স্কুলগুলি ৷ অনেক স্কুলের তো এখনও পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনও হয়নি ৷ তাও চলছে স্কুল ৷ আসছে বাচ্চারা ৷
আলতাপুরের এমনই একটি কিন্ডারগার্টেনে বাচ্চাদের পাঠাচ্ছেন অভিভাবকরা ৷ এখনও অবধি স্কুলে রেজিস্ট্রেশন হয়নি ৷ তবে পড়াশোনা চালু রয়েছে ৷ স্কুলের মালিক আবদুল রাইহান বলেন, "এখানে এরকম ভাবে অনেক স্কুলই চলছে ৷ সবাই স্কুল চালাচ্ছে, তাই আমিও চালাচ্ছি ৷ যদি আমাকে বন্ধ করতে বলা হয় তাহলে আমি বন্ধ করে দেব ৷" দূরত্ব বিধি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে আবদুল জানান, তাঁর স্কুলে তিরিশ জন পড়ুয়া রয়েছে ৷ স্কুলে তিনটি ঘর রয়েছে ৷ তাই তিরিশ জন বাচ্চাকে তিনটি ঘরে ভাগ করে বসানো হচ্ছে ৷ তাতে দূরত্ব বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে না ৷ তবে বাস্তবে চিত্রটা আলাদা দেখা গেল ৷ স্কুলে আসা কোনও বাচ্চার মুখেই মাস্ক নেই ৷ স্কুল চত্বরে এক সঙ্গে তাদের খেলার সময় দূরত্ব বিধির ছিটেফোঁটাও থাকছে না ৷