বারাসত , 12 মে : কার্যকর হল না মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ । রেড জ়োন এখনও অরেঞ্জ হয়নি । বরং একের পর এক কনটেইনমেন্ট জ়োন বেড়েই চলেছে । এবার কোরোনার সংক্রমণ সুন্দরবনেও । মঙ্গলবার কোরোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন উত্তর 24 পরগনার সন্দেশখালি ব্লকের এক প্রৌঢ় । পাশাপাশি , গোপালনগর ও গোবরডাঙাতে আরও দু'জনের শরীরে কোরোনা পজ়িটিভ ধরা পড়েছে । 17 এপ্রিল প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছিলেন , 14 দিনের মধ্যে জেলাকে রেড জ়োন থেকে অরেঞ্জ জ়োন করতে হবে । অরেঞ্জ তো হলই না । বরং একের পর এক কন্টেইনমেন্ট জ়োন বেড়েই চলেছে । আপাতত জেলায় কন্টেইনমেন্ট জ়োন প্রায় একশো । ফলে কোরোনার উদ্বেগ বেড়েই চলেছে ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে , সন্দেশখালি দুই নম্বর ব্লকের জেলেখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা এক প্রৌঢ় কোরোনা আক্রান্ত হয়েছেন । দীর্ঘদিন ধরে তিনি অর্শ রোগে ভুগছিলেন । 15 দিন আগে ঘটকপুকুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর অর্শ অস্ত্রোপচার হয় । কিন্তু অস্ত্রোপচার ঠিকঠাক না হওয়ায় রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিল না । তা নিয়ে শেষ কয়েকদিন কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরছিলেন । সঙ্গে জ্বর ও কাশি উপসর্গও দেখা দেয় । অবশেষে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালে ভরতি হন । সেখানে তাঁর সোয়াব টেস্ট হয় । তাতে কোরোনা পজ়িটিভ ধরা পড়ে । সেই খবর গ্রামে পৌঁছতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে । ইতিমধ্যে সন্দেশখালি থানার পক্ষ থেকে ওই প্রৌঢ়ের বাড়ি সিল করে দেওয়া হয়েছে । স্যানিটাইজ় করা হয়েছে আক্রান্তের বাড়ির চারপাশ । স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে ও প্রতিবেশী-সহ 15 জনকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর 14 দিনের হোম কোয়ারানটিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
অন্যদিকে , উত্তর 24 পরগনার গোপালনগরে দু'নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা এক যুবকের শরীরেও কোরোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে । 10 মে রবিবার সকালে বনগাঁ মহাকুমা হাসপাতালে ওই যুবকের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয় । সোমবার রাতে তাঁর রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে । আক্রান্ত যুবক কলকাতার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী পদে কাজ করেন । 8 মে বাড়ি ফিরেছিলেন । তারপর অসুস্থ হয়ে পড়েন । ওই যুবকের বাড়ির চারপাশ সিল করে দেওয়া হয়েছে । পরিবারের লোকেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর হোম কোয়ারানটিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।