দুর্গাপুর, 7 অগস্ট : একুশের বিধানসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee) তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প ৷ তৃণমূল নেত্রীর দাবি ছিল, ধাপে ধাপে রাজ্য়ের সমস্ত গ্রাহককেই এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে ৷ ফলে রেশন দোকানে গিয়ে আর লম্বাই লাইনে অপেক্ষা করতে হবে না উপভোক্তাদের ৷ কিন্তু, মমতার আশ্বাসে আশার বাণী শুনলেও বাস্তবে একেবারে উল্টো অভিজ্ঞতা হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের ৷ দুয়ারে রেশন দূরে থাক, সাত সকালে সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকানে গিয়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও বরাদ্দ রেশন পাচ্ছেন না তাঁরা ! অধিকাংশকেই ফিরে আসতে হচ্ছে খালি হাতে ৷ ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে আধারের সংযুক্তি পর থেকেই শুরু হয়েছে এই দুর্ভোগ ৷ যাঁদের হাতে ডিজিটাল রেশন কার্ড এখনও পৌঁছয়নি, তাঁদের অবস্থা হয়েছে আরও শোচনীয় ৷
আরও পড়ুন :Ration-Aadhaar Link : আধার লিঙ্ক বিভ্রাট, রেশন না পেয়ে বিপাকে কাঁথির কয়েকশো দরিদ্র মানুষ
উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি না করেই রাজ্য তথা দেশের রেশন সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্য়োগ নিয়েছে সরকার ৷ কেন্দ্রের দাওয়াই, ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’ ৷ আর রাজ্য়ের অস্ত্র, ‘দুয়ারে রেশন’ ৷ উদ্দেশ্য সাধু হলেও দু’টি ক্ষেত্রেই উন্নতমানের ইন্টারনেট পরিষেবা বাঞ্ছনীয় ৷ অথচ সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই ডিজিট্যাল রেশন কার্ড চালু করে দেওয়া হয়েছে ৷ রেশন কার্ডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আধার কার্ডের নম্বর ৷ রেশনের পণ্য চুরি ও কালোবাজারি ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ ৷ অথচ দুর্গাপুরের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবা অত্যন্ত দুর্বল ৷ বেশিরভাগ সময়েই লিংক থাকে না ৷ ফলে ঠায় লাইনে দাঁড়িয়েও মেলে না রেশন ৷