কলকাতা, 3 ডিসেম্বর:কথা ছিল আবেদন করলে 48 ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে চিপ বসানো গাড়ির স্মার্ট কার্ড । তবে পরিবহণ দফতরের কথা অনুযায়ী তেমনটা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ একাংশ রাজ্যবাসীর । স্মার্ট কার্ড পেতে পেতে মাসের পর মাস কাবার হয়ে যাচ্ছে ৷ বিভিন্ন জায়গা থেকে একের পর এক এমনটাই অভিযোগ সামনে আসছে । এবার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ৷
তিনি বলেন, "ইতিমধ্যেই পাঁচ লক্ষের বেশি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে । তবে কিছু স্মার্ট কার্ডের ক্ষেত্রে দেরি হচ্ছে । তবে সেই সংখ্যাটা খুব বেশি নয় । কার্ডগুলির ক্ষেত্রে ঠিকানা সঠিক না থাকায় সেগুলি ফিরে গিয়েছে । প্রতিদিন আট থেকে দশ হাজার রেজিস্ট্রেশন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয় । কয়েক হাজার কার্ড হয়তো পৌঁছতে দেরি হচ্ছে । কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা হবে । সেই সংখ্যাটা অনেক কম । কিন্তু আশা করা হচ্ছে যে এই সমস্যা পরিবহণ দফতর ঠিক করে ফেলতে পারবে ।"
পরিবহণ দফতরকে বাস অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ
চলতি বছরের গত 1 জুন নয়া এই মাইক্রো চিপ বসানো স্মার্ট কার্ডের উদ্বোধন করেছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী । রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও স্মার্ট এবং সুরক্ষিত করে তুলতে এই নয়া পদক্ষেপ বলে তিনি জানিয়েছেলেন ৷ তাই কাগজের স্মার্ট কার্ডের পরিবর্তে এবার আবেদনকারীরা পাবেন ল্যামিনেট করা মাইক্রো চিপ বসানো স্মার্ট কার্ড । মূলত মিনিস্ট্রি অফ রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়েসের(মোর্ট) নিয়মে ওয়ান নেশন ওয়ান কার্ডের রীতি মেনেই এই পরিষেবা বাংলায় চালু করা হয় । তখন বলা হয়েছিল, কেউ যদি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে ড্রাইভিং পরীক্ষা দেওয়ার একঘণ্টার মধ্যেই পাশ করলে সার্টিফিকেটের সফট কপি মোবাইল ফোনে চলে যাবে । তারপর দু'দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছে যাবে নয়া রূপের এই স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স ।
আর তা কাগজের আকারে নয়, ভারতীয় ডাক বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কুরিয়ারের মাধ্যমে বাড়ির ঠিকানায় চলে আসবে পিভিসি বা স্মার্ট কার্ড । কার্ডটি দেখতে কিছুটা এটিএম কার্ডের মতো । এই স্মার্ট কার্ডে মাইক্রোচিপ এবং কিউ আর কোড বসানো আছে । প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা কিউ আর কোড বরাদ্দ । এর ফলে স্মার্ট কার্ড জাল করার বা তা কপি করার কোনও সম্ভাবনা থাকবে না বলেই জানানো হয়েছিল । এই পরিষেবার জন্য বাড়তি 200 টাকা গুনতে হবে আবেদনকারীকে । তবে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করা যাবে দেশের যেকোনও রাজ্যে । তার জন্য আলাদা করে আর কোনও অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না ।