কলকাতা, 14 ফেব্রুয়ারি: বিরোধী রাজনৈতিক দল বলছে, ট্র্যাকে ফিরছেন রাজ্যপাল । এদিকে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Bengal Governor CV Ananda Bose) দিল্লি গিয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল ও বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের (Vice President Jagdeep Dhankhar) সঙ্গে বৈঠক করছেন । সিঁদুরে মেঘ দেখছে রাজনৈতিক মহল । তৃণমূল (Trinamool Congress) বলছে, প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় যেভাবে রাজভবনকে বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত করেছিলেন, সেই পথেই বর্তমান রাজ্যপালকে আনতে চাইছে বিজেপি (BJP) । এটাই আসলে ট্র্যাকে ফেরা । আর বিজেপি বলছে, রাজ্যে গণতন্ত্রের হত্যা করা হচ্ছে । আর রাজ্যপাল সেসব দেখেও চুপ থাকবেন, আর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশস্তি করবেন, এটাই অভিপ্রায় তৃণমূলের । আর এসবের মধ্যেই জমজমাট বঙ্গ রাজনীতি ।
আসলে বঙ্গ রাজনীতিতে শাসকের সঙ্গে তাল ঠোকাঠুকি চলেছে, এমন রাজ্যপালের সংখ্যা নেহাতই কম নয় । সেই ষাটের দশকে ধরমবীর থেকে হালফিলের ধনকড় । রাজভবনে বসে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন একের পর এক রাজ্যপাল । ইতিহাস বলছে, 1967 সালে অজয় মুখোপাধ্যায়ের যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ফেলে দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল ধরমবীর । এরপর 1969 সালে আবার গঠিত হয় সেই যুক্তফ্রন্ট সরকার ।
ওই বছর মন্ত্রিসভা গঠনের পর, বাজেট অধিবেশনে বিধানসভায় পাঠ করার জন্য তাঁকে ভাষণ তৈরি করে দিয়েছিল সরকার । সেই বিবৃতিতে লেখা ছিল, ‘আমি প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার অন্যায়ভাবে ভেঙেছিলাম’ । রাজ্যপাল ওই অংশটুকু বাদ দিয়েই লিখিত ভাষণ পাঠ করেন । যুক্তফ্রন্টের নেতা-মন্ত্রীরা বারবার দাবি করা সত্ত্বেও, ধরমবীর ওই অংশ পাঠ করেননি । এরপর যতদিন ধরমবীর রাজ্যপাল হিসেবে ছিলেন, ততদিন সরকারের সঙ্গে রাজভবনের এই সংঘাত জারি ছিল ।
পরবর্তীতে বামফ্রন্ট আমলে গোপালকৃষ্ণ গান্ধিকে নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে । নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় 2007 সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত কারও অজানা নয় । 14 মার্চ নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল 14 জনের । সেই সময় গোপালকৃষ্ণ গান্ধি বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনাকে বলেছিলেন হাড় হিম করা আতঙ্ক । এমনকি সিঙ্গুরের ঘটনায় যেভাবে তৎকালীন রাজ্যপাল বিরোধীদের পক্ষ নিয়েছিলেন, তাতে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সংঘাত অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল ।