ঝাড়গ্রাম, 6 মার্চ:রবিবারের দুপুরে খাসির মাংস ও ভাত খেতে বসেছিল পুরো পরিবার। তবে পাতে খাসির মাংস পড়ার আগেই দুয়ারের সামনে এসে দাঁড়ায় অতিথি। সেই বাড়িতেই দুপুরে স্নান, খাবার খেয়ে বিশ্রাম সেরে সে ফিরে যায়। অবশ্য অতিথির তাণ্ডবের জেরে ক্ষয়ক্ষতি হয় বাড়ির রেলিংয়ে। গল্পটা ঝাড়গ্রাম কি রামলালের । প্রসঙ্গত, রামলাল ঝাড়গ্রামের একটি হাতি। রবিবার দুপুরে এমনি দৃশ্য দেখা গেল ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের পুকুরিয়ার অরুণডিহি এলাকায়। এই ঘটনায় হতবাক হয়ে যায় পরিবার (Elephant Welcomed by Locals to Fulfill Its Thirst and Hunger)।
তাঁদের কথায়, মার্চ মাসের শুরু হলেও দুপুরের দিকে বেশ গরম পড়ে গিয়েছে। তাই মূলত জল খাওয়ার জন্য রামলাল আসে। এদিন রামলালকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন এলাকার মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ঘড়ির কাঁটায় তখন বাজে দুপুর 1টা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতে বসবেন সাহেবরাম মুর্মু। রবিবার ছুটির দিনে তাঁর পরিবারের সকলেই বাড়িতে ছিলেন। ঠিক সেই সময় তাঁর বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে আসে রামলাল। খাওয়া রেখে সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে গরমের কথা মাথায় রেখে সাহেবরামবাবু সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে দেন। বেশকিছুক্ষণ ধরে সেই জলেই স্নান সারে রামলাল। স্নান সেরে এসে ঘরের ভিতরে ঢুকে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রামও সেরে নেয় ৷
এরপর জল ও গোটা দশেক কলা গাছ খায় রামলাল । পরে যাওয়ার সময় বাড়ির চারপাশে দেওয়া তারের রেলিং ভেঙে জঙ্গলের দিকে চলে যায়। তবে আতঙ্কিত হলেও রামলালের উপর রেগে নেই সাহেবরাম বাবুর পরিবারের সদস্যরা । সাহেবরাম বাবুর কথায়, "রামলাল জঙ্গলমহলের আবেগ । জঙ্গলমহলের মানুষ তাকে ভালোবাসে । কোনও ক্ষতি সে করে না । বাড়িতে এসে স্নান, খাওয়া-দাওয়া করেছে সে । এমন ধরনের ঘটনা আগে কোনওদিন ঘটেনি । তাই ভয় লাগছে রামলাল যদি রাতের অন্ধকারে আসে তাহলে তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বাড়বে ।"