পশ্চিমবঙ্গ

west bengal

ETV Bharat / state

Ramnavami 2023: পসরা সাজিয়ে রমজান মাসে রামনবমী উদযাপন চাঁপদানির মনসুর চাচার - রামনবমী

এ এক অন্যরকম সম্প্রীতির বার্তা ৷ রামনবমী উপলক্ষ্যে রমজান মাসে হুগলির চাঁপদানির মনসুর চাচার রামনবমী উদযাপন বার্তা দিলে মানবতার ৷ দেদার বিকোলেন রামনবমী উদযাপনের সামগ্রী ৷

Etv Bharat
মনসুর চাচার রামনবমী উদযাপন

By

Published : Mar 30, 2023, 10:57 PM IST

হুগলি, 30 মার্চ: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার ৷ নিজের ধর্ম পালনের সঙ্গে সঙ্গে পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাঠ দিলেন হুগলির চাঁপদানির মনসুর চাচা। তাঁর কাছে ধর্মটা বড় নয়, কর্মই সবার উপরে। তাই তিনি মুসলিম ধর্মালম্বী হয়েও হিন্দু ধর্মের সমস্ত রকম উৎসবে ব্যবসায়িক পসরা নিয়ে বসেন তাঁর দোকানে। রমজান মাসে নিয়মিত রোজা পালন করেছেন ৷ আবার রামনবমী উপলক্ষ্যে পতাকা, রাম ও হনুমানের ছবি-সহ হিন্দু দেবতাদের নানা পুজোর জিনিসপত্র বিক্রি করে দিন গুজরান করেন মনসুর চাচা। বহু মানুষের নিত্য আনাগোনা রয়েছে তাঁর দোকানে ৷

চাঁপদানিকে এমনিতেই 'মিনি ভারত' বলা হয়। হুগলি শিল্পাঞ্চল হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন রাজ্য ও ভাষার মানুষ বসবাস করেন এখানে। সেই কারণে হিন্দু-মুসলিম, শিখ-জৈন, খ্রিস্টান সকলে এক সঙ্গে বসবাস করেন। চাঁপদানির ট্যাঙ্কি মহল্লায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টেই সংসার চলে তাঁর। বাজারে একটি গুমটি থেকে কোনওক্রমে দিন গুজরান করেন। তাই বিভিন্ন উৎসবের সময় রকমারি ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেন মনসুর চাচা। তাঁর কাছে সংসার চালাতে গেলে ধর্ম নয়, কর্মকেই সবার উপরে রাখা উচিত।

এই প্রসঙ্গে ক্রেতা চন্দন দাস বলেন, "কে সংখ্যালঘু বা কে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই সমস্ত বিষয়ের থেকে বড় হলও মানবতা। এখানে কেউ কাউকে জাত-ধর্ম দিয়ে বিচার করেন না ৷ এখানে সবাই একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন।" অপর এক দোকানদার বলেন, "মনসুর দা, আমরা একসঙ্গে দোকানদারি করি। বিভিন্ন উৎসবে তিনি সবরকম ব্যবসা করেন। এতে অসুবিধার কিছু নেই। ব্যবসার সময় ব্যবসা ৷ ধর্ম যাই হোক না কেন। এই রমজান মাসে রোজা শেষে সকলে মিলে ইফতার করি। আমাদের একসঙ্গে ওঠাবসা সব কিছুই চলে। কোনও বিভেদ নেই। ওনাদের ধর্মকে আমরা সম্মান করি, আমাদের ধর্মকে ওনারা সম্মান করেন।"

মনসুর চাচার মানবতার বার্তা

আরও পড়ুন:সোনার দোকানের পিছনের দেওয়াল কেটে দুঃসাহসিক চুরি দত্তপুকুরে

এই বিষয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ সাউ জানিয়েছেন, তিনি নিজে মনসুরকে চেনেন। দীর্ঘ 30 বছর ধরে ওই ব্যক্তির দোকান রয়েছে জিটি রোডের উপরে। দোকানের পাশেই রয়েছে মন্দির। মন্দিরে আসা ভক্তরা তাঁর দোকান থেকে পুজোর সামগ্রী কেনেন। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের সঙ্গে ভাইয়ের মতো মিলেমিশে থাকেন। তাঁদের মধ্যে ধর্মের কোনও ভেদাভেদ নেই। যেমন মনসুর রাম নবমীতে ধ্বজা বিক্রি করছেন ঠিক তেমনি তার পাশের দোকানদাররাও যারা হিন্দু, তারাও ইসলামিক কোনও উৎসবে, ইসলামিক ধর্মীয় দ্রব্যাদি বিক্রি করেন। এখানকার মানুষের কাছে সব থেকে বড় ধর্ম হল মানবতার ধর্ম।

ABOUT THE AUTHOR

...view details