কলকাতা, 18 জুন : গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মুকুল রায় (Mukul Roy) । তিনি বিজেপিতে (BJP) ছিলেন জাতীয় সহ সভাপতি ৷ তিনি ওই দল ছেড়ে চলে আসায় স্বাভাবিকভাবে পদটি ফাঁকা হয়েছে গিয়েছে ৷ তাই এবার ওই পদে কে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে ৷
বিজেপির একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে যে ওই পদ কাকে দেওয়া হবে, এই নিয়ে একাধিক নাম ভাসছে । কিন্তু কাকে এই পদে নিয়ে এলে দলের লাভ হবে, আপাতত তা নিয়েই চলছে আলোচনা ৷ বিজেপির ওই সূত্র জানাচ্ছে যে এই মুহূর্তে এই পদের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani) এবং রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) । কিন্তু এই দু’জনের মধ্যে কাকে দায়িত্ব দিলে রাজ্যে বিজেপির বিস্তার দ্রুতগতিতে হতে পারে, তা নিয়ে সন্দিহান দল ৷
বিজেপির ওই সূত্র বলছে যে স্মৃতি ইরানি বরাবরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রিয়পাত্রী ৷ 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে হারার পরও তাঁকে মন্ত্রী করা হয় ৷ পরে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয় ৷ 2019 সালে তিনি রাহুল গান্ধিকে হারিয়ে সাংসদ হয়েছেন ৷ ফলে তাঁর গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে ৷
আরও পড়ুন :মুকুলের পথে ঘরে ফিরে সুদীপ কি ত্রিপুয়ায় তৃণমূলের সুদিন ফেরাবেন ?
তার উপর তিনি বাংলা ভালো বলতে পারেন ৷ তাই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে তাঁর আলাদা গুরুত্ব আছে ৷ প্রতিবারই তাঁকে তারকা প্রচারকের তালিকায় রাখা হয় ৷ তাই তাঁকে জাতীয় সহ-সভাপতি করা হলে, বাংলাতে তাঁকে দিয়ে সংগঠনের কাজ করানো সহজ হবে ৷ কারণ, সাম্প্রতিক নির্বাচনে হারের পর বিজেপির হিন্দিভাষী নেতাদের নিয়ে অভিযোগ উঠেছে ৷ আর স্মৃতি ইরানি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন এমন একজন নেতা, আবার বাংলাও বলতে পারেন ৷ তাই তাঁকে অবশ্যই সংগঠনের কাজে ব্যবহার করতে চাইবে বিজেপি ৷ সেই হিসেবে স্মৃতি ইরানি এগিয়ে ৷
কিন্তু এক্ষেত্রে একটাই সমস্যা, স্মৃতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ৷ বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই এক নেতা, এক পদ - এই নীতি মেনে চলে ৷ মন্ত্রীরা কখনও সংগঠনের পদ পান না ৷ তাই স্মৃতিকে এই পদে আনতে গেলে তাঁকে মোদির (Narendra Modi) মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে হবে ৷ সেটা কি করা উচিত হবে ? আপাতত এই প্রশ্নই ঘুরছে গেরুয়া শিবিরের মধ্যে ৷