কলকাতা, 21 অগস্ট: 54 বছরে পা রেখেছে মধ্য কলকাতার অন্যতম বড় পুজো মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গোৎসব (Muhammad Ali Park Durga Puja) । 7 জুলাই পার্কের ভিতরে মণ্ডপ চত্বরে খুঁটি পুজো করা হয় ধুমধাম করে । উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও বরো চেয়ারম্যান রেহানা খাতুন । ছিলেন জোড়াসাঁকো বিধানসভার বিধায়ক বিবেক গুপ্ত-সহ অন্যান্যরা ।
বেশ কিছুদিন আগে ডিসি সেন্ট্রাল সরেজমিনে দেখে গিয়েছেন পুজো মণ্ডপ কোথায় হচ্ছে, কীভাবে দর্শনার্থীরা ঢুকবেন এবং বেরোবেন । তখন কেউ কোনও আপত্তি করেননি বলেই দাবি স্থানীয়দের । তবে পুজোর যখন মাত্র মাসখানেক বাকি, তখন আচমকা মণ্ডপ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ হাতে পেয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড় পুজো কমিটির সদস্যদের । তবে প্রকাশ্যে কাউকে তারা দোষারোপ করতে নারাজ ।
কলকাতা পৌরনিগমের (Kolkata Municipal Corporation) জল সরবরাহ বিভাগের তরফে শনিবার নির্দেশিকা পাঠিয়ে মণ্ডপ নির্মাণ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে ৷ শুধু তাই নয়, মণ্ডপে যে কাজ হয়েছে তা ধাপে ধাপে সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে পুজো কমিটি দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকায় । এই নির্দেশ পাওয়ার পরে পুজো কমিটির সদস্য ও এলাকায় মানুষজনের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ।
পার্কের ভিতরে মণ্ডপ চত্ত্বরে খুঁটি পুজো করা হয় ধুমধাম করে তাদের একাংশের দাবি, এই মাঠে পৌরনিগমের যে জলাধার ভেঙে পড়েছিল বছর তিন কেটে গেলেও তার কিছুই করা হয়নি । এই ঘটনার জেরে বিগত দু'টি বছর ফায়ার ব্রিগেড স্টেশনের ভিতরের অংশে এবং গতবছর পার্কের সিঁড়ির কাছে মণ্ডপ করে পুজো করা হয়। পার্কের যে অংশ নিরাপদ, সেই অংশে এবার মণ্ডপ করা হবে তা আমরা সকলকে জানিয়েছি । মৌখিক সম্মতিও পেয়েছি । তবেই তো খুঁটি পুজোর দিন 10-15 পরে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করেছি ভিতরে ।
খুঁটি পুজোয় এলাকার বরো চেয়ারম্যান রেহানা খাতুন, বিধায়ক বিবেক গুপ্ত-সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন ৷ তখন কোনওদিক থেকে কোনওরকম বাধা আসেনি বা আপত্তি আসেনি। এখন মণ্ডপের প্রায় 75 শতাংশ কাজ শেষ । তাহলে আচমকা এখন নোটিশ কেন? এর পিছনে অন্য কোনও কিছু পরিকল্পনার আশঙ্কা করছেন পুজো উদ্যোক্তারা ।
মণ্ডপ নির্মাণের কাজ বন্ধের নোটিশ পেয়ে অবাক মহম্মদ আলি পার্কের পুজো উদ্যোক্তারা আরও পড়ুন:বড় বিপদের আশঙ্কা, মহম্মদ আলি পার্কে পুজো মণ্ডপ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা পৌরনিগমের
ক্লাবের এক কর্তা প্রভাত তিওয়ারি বলেন, "আমাদের বহু পুরনো পুজো, তবু জলাধার বিপর্যয়ের জেরে আমাদের সরে যেতে হয়েছিল । আমরা তখন বা গত তিন বছর ধরে কোনও ঝামেলা করিনি । এবারও করব না । কোথায় পুজো হবে এবার পৌরনিগম থেকে পুলিশ সকলেই জানতেন । তাই ভিতরে মণ্ডপ করেছি তবে নিরাপদ অংশে । কিন্তু নোটিশ পেয়ে বুঝতে পারছি না । আমরা বিকেলে বৈঠকে বসব । সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে আগামীতে । সোমবার পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক আছে । সেখানেও বিষয়টি জানাব । আমরা কী করব বুঝে উঠতে পারছি না ৷ এই মুহূর্তে শুধু বলতে পারি মায়ের পুজো, মা-ই রাস্তা বলে দেবেন ।"